মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
২৮শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি, রাত ৪:০১

খালেদা জিয়ার জানাযায় মানুষের ঢল

স্টাফ রিপোর্টারঃ
খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পথে মানুষের যে ঢল নেমেছিল, তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছাতে পারেননি। বুধবার যতই বেলা গড়ায় সংসদ ভবন থেকে মানুষের ভিড়ের স্তর ততই আশপাশের এলাকায় দৃশ্যমান হয়।

সংসদ ভবনের সামনের দুটি বিশাল মাঠ লোকে পরিপূর্ণ ছিল। পাশের ফার্মগেট, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ হয়ে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত জানাজায় মানুষের সারি ছিল। অপরদিকে ধানমন্ডির সোবহানবাগ মসজিদ থেকে শ্যামলীর শিশুমেলা, মিরপুর সড়কের দুপাশেও জানাজায় দাঁড়িয়েছিলেন অনেকে। নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব না হলেও জানাজায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধারণা, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনকে বিদায় জানাতে জড়ো হয়েছিল কয়েক লাখ মানুষ। সংসদ ভবনের সামনের মাঠ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।
তবে বিভিন্ন এলাকার সড়কে মানুষের উপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনটি অনুমিত সংখ্যা প্রকাশ করেছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য ডিসেন্ট। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত জনসমাগমের এলাকা, গুগল ম্যাপে সেসব এলাকার রাস্তাগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রশস্ততার পরিমাপ এবং বিশ্লেষকের সহায়তা নিয়ে মোট আয়তন ও জনসমাগমের সংখ্যা তুলে ধরেছে। ডিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ৪ লাখ বর্গমিটারের প্রতি বর্গমিটার ৪ জন করে ধরলে সমাগম হয়েছিল প্রায় ১৬ লাখ। প্রতি বর্গমিটারে ৬ ও ৮ জন করে মানুষ ধরলে সম্ভাব্য সমাগম হয়েছিল যথাক্রমে ২৪ ও ৩২ লাখ।

অংশগ্রহণকারীরা যা বলছেন
জনতার স্রোতে শামিল হয়েছিলেন ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। তাদেরই একজন যাত্রাবাড়ীর আসিফ মাহমুদ। তিনি ছিলেন কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের নিচে জানাজার সারিতে। আসিফ বলেন, কেবল কারওয়ান বাজার মোড় ও এর পাশে দাঁড়ানো মানুষের সংখ্যাই ছিল প্রায় ৩০ হাজার।

জানাজায় অংশ নেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন (৭০) বলেছেন, কখনোই খালেদা জিয়ার পক্ষে ভোট দেননি। তবে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাতেই এখানে এসেছেন। মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার নাতিকে সঙ্গে করে এসেছি, একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে শেষ বিদায় জানাতে। যার অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
শোকাহত শারমিনা সিরাজ নামের আরেকজন বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন অনুপ্রেরণার উৎস। অদূর ভবিষ্যতে নারীদের নেতৃত্বের আসনে কল্পনা করাও কঠিন।’

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা